আপনার কি কিছু জানার আছে ? +৮৮০ ১৬২ ৮৮৯ ১৪৫৭

blog-details

কম্পিউটার ও এর হার্ডওয়্যার সর্ম্পকে ধারণা

By অ্যাডমিন / 2022-10-11

আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকে যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে বসেছি তা হচ্ছে কম্পিউটারকম্পিউটার নিয়ে আজকেই যেহেতু প্রথম টিউন এই টিউনে আলোচনা করব কম্পিউটারের বেসিক বিষয়গুলো নিয়ে।

এই টিউনে যা যা থাকছে, কম্পিউটার কী? কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ ও  এর হার্ডওয়্যার সর্ম্পকে বিস্তারিত আলোচনা। তাহলে চলুন শুরু করা যাক…

কম্পিউটার (Computer) কী?

কম্পিউটার হলো এমন এক যন্ত্র যা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য গ্রহন করে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ করে ও উপস্থাপন করে।

 কম্পিউটার শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ইংরেজি শব্দ কম্পিউট (Compute) থেকে, যার মানে হল গণনা করা। প্রাথমিক ভাবে আমরা ধারণা করি যে কম্পিউটার একটি গণনাকারি যন্ত্র। কিন্তু এর বাস্তব চিত্রটা অনেক ব্যাপক। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই কম্পিউটারের ব্যবহার রয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষনা থেকে শুরু করে, ব্যবসা, ইন্জিনিয়ারিং এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার আসে ১৯৬৪ সালে।

কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ :

বিভিন্ন দিক থেকে কম্পিউটার কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। তবে কার্যক্ষমতা ও আকৃতির উপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. পার্সোনাল কম্পিউটার (PC)

২. মিনি কম্পিউটার (Mini Computer)

৩. মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer)

৪. সুপার কম্পিউটার (Super Computer)

১. পার্সোনাল কম্পিউটার (PC) : এটি একটি সিঙ্গেল ইউজার কম্পিউটার। যার আকার, ক্ষমতা এবং দাম একজন সাধারন ব্যবহারকারীরা উপযোগী এবং কোনো প্রকার তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। যার মাইক্রোপ্রসেসরের ক্ষমতা মধ্যমানের।

২. মিনি কম্পিউটার (Mini Computer) : এ শ্রেণীর কম্পিউটার গুলো ছোট আকৃতির। এ কম্পিউটার টার্মিনালের মাধ্যমে একসঙ্গে অনেক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে। এর কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ হিসেবে সাধারন এক বোর্ড বিশিষ্ট বর্তনী ব্যবহৃত হয়। শিল্প কারখানা, খেলাধুলা, ও এন্টারটেইনমেন্ট কাজে এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

৩. মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer) : সুপার কম্পিউটার থেকে ছোট তবে অন্যান্য কম্পিউটারের চেয়ে বড় আকৃতির এ কম্পিউটার একই সঙ্গে অনেকগুলো গ্রহন মুখ/নির্গমন মুখ এবং অনেক রকম সহায়ক স্মৃতির সাথে সংযোগ রক্ষা করে কাজ করতে পারে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কম্পিউটারের ব্যবহার রয়েছে।

৪. সুপার কম্পিউটার (Super Computer): আকৃতিগত দিক থেকে সর্ববৃহৎ এই কম্পিউটারের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা শক্তিশালী ও দ্রুতগতি সম্পন্ন। গনিতের অনেক বড় বড় হিসাবনিকাশে, ল্যাবরেটরিতে গবেষনার কাজে, আবহাওয়ার পুর্ভাবাস, জলবায়ু গবেষনা ইত্যাদি কাজে সুপার কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা :

একটি কম্পিউটার অনেকগুলো উপাদানের সমন্বেয়ে তৈরি করা হয় আর সেই সব উপাদানগুলোকে একত্রে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার বলা হয়। যা আমরা নিজের চোখে দেখতে পাই এবং physically হাত দিয়ে ধরতেও পারি। যেমন: CPU, Keyborad, Mouse, Monitor ইত্যাদি সবই কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার

হার্ডওয়্যার দিয়ে সঠিকভাবে কার্যসম্পাদন করার জন্য প্রয়োজন সফটওয়্যার। নির্দিষ্ট কোনো কাজ করার জন্য সফটওয়্যার হার্ডওয়্যারকে নির্দেশ (instructions) প্রদান কর।কম্পিউটারে বিভিন্ন রকমের অনেক প্রকার হার্ডওয়্যার রয়েছে। সবগুলোর ব্যাপারে একসাথে বলা সম্ভব না। তাই আমি নিচে কিছু প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সর্ম্পকে আলোচনা করছি।

ইন্টারনাল (internal) হার্ডওয়্যার ডিভাইস :

ইন্টারনাল হার্ডওয়্যার বলতে বোঝায় যা আপনি কম্পিউটারের ভেতরেই দেখতে পাবেন।

১. Motherboard : মাদারবোর্ড হলো কম্পিউটারের সার্কিট বোর্ড যেখানে অন্য সব components লাগানো থাকে।

২. Central Processing Unit (CPU) : সিপিউ কে কম্পিউটারের ব্রেইন বলা হয়। এটি দ্বারাই কম্পিউটার সব রকমের process সম্পন্ন হয়ে থাকে।

৩. Random Access Memory (RAM) : কম্পিউটারে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন প্রোগ্রামের ডাটা অস্থায়ী ভাবে জমা রাখতে RAM ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটারে RAM যত বেশি হবে তার কার্যক্ষমতা ও স্পিড ততো বেশি হবে।

৪. Power Supply Unit (PSU) : এর মাধ্যমে Computer ও মাদারবোর্ডে সব আলাদা আলাদা অংশে বৈদ্যুতিক শক্তি প্রদান করে।

৫. Hard Disk / Drive: এটি কম্পিউটারের স্টোরেজ সিস্টেম। যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ডাটা জমা থাকে। আমরা কম্পিউটারে যেসব Files, Games, Movies ইত্যাদি রাখি সবই hard disk জমা থাকে।

এক্সটার্নাল (external) হার্ডওয়্যার ডিভাইস :

External হার্ডওয়্যার বলতে বোঝায় যা CPU সাথে বাইরে থেকে আলাদা ভাবে সংযোগ প্রদান করতে হয়।

১. Keyborad & Mouseকিবোর্ড ও মাউস দুটিই ইনপুট ডিভাইস। যার মাধ্যমে কম্পিউটার বিভিন্ন ধরনের তথ্য গ্রহন করে থাকে। মাউসকে আবার pointer বলা হয়।

২. Monitorএর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার পর তার ফলাফল প্রদর্শণ করে থাকে।

৩. Printer: প্রিন্টার হলো একটি আউটপুট ডিভাইস। যার মাধ্যমে data, image, text ইত্যাদি কাগজের মাধ্যমে ছেপে সেগুলোর আউটপুট নিতে পারি।

সর্বশেষ কথা :

তাহলে আজকের ব্লগে কম্পিউটার কী, কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ, এর ইন্টারনাল এক্সটার্নাল হার্ডওয়্যার ডিভাইস সর্ম্পকে জানতে পারলাম। যদি কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে নিচের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।